আব্দুল্লাহ আল মামুন (চুয়াডাঙ্গা)
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ ও বিক্রির অভিযোগে পুলিশের বিশেষ অভিযানে একটি তেলবাহী লরি জব্দ করা হয়েছে এবং চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ ডিজেল ও পেট্রোল উদ্ধার করা হয়।সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে আলমডাঙ্গা থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. জামাল আল নাসের এসব তথ্য জানান।তিনি বলেন, একইদিন রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে আলমডাঙ্গা থানাধীন বড়গাংনী পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের এসআই পবিত্র মন্ডলের নেতৃত্বে নিয়মিত রাত্রিকালীন টহল ও বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে কয়রাডাঙ্গা গ্রামে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে এএসআই মো. ইব্রাহীম হোসেনসহ সঙ্গীয় ফোর্স অংশ নেয়।অভিযানকালে ভালাইপুর-হাটবোয়ালিয়া সড়কের পাশে একটি দোকানে ঝিনাইদহ-ঢ-৪১-০০১১ নম্বরের একটি তেলবাহী লরি থেকে অবৈধভাবে ব্যারেলে জ্বালানি তেল খালাস করা হচ্ছিল। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা তেলের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন।পরে লরি থেকে মোট ২ হাজার ৮০০ লিটার ডিজেল এবং ড্রাম ও ব্যারেলসহ প্রায় ৮ হাজার ৭০০ লিটার পেট্রোল জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।গ্রেফতারকৃতরা হলেন—চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দৌলতদিয়াড় মাঝেরপাড়া এলাকার মৃত বদর উদ্দিনের ছেলে লরিচালক মো. আলী হোসেন (৫৩), একই এলাকার মৃত আবু হোসেনের ছেলে লরির হেলপার মো. মোজাম হোসেন (৪৫), পীরপুর মাঝেরপাড়া এলাকার সানোয়ার হোসেনের ছেলে মো. রাহেন আলী (২৮) এবং আলমডাঙ্গা উপজেলার কয়রাডাঙ্গা (খাদেমপুর মোড়) এলাকার মো. শামসুল ইসলামের ছেলে তেল ব্যবসায়ী মো. টিটন আলী (৩৭)।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছেন যে, অধিক মূল্যে বিক্রির উদ্দেশ্যে তারা পরস্পরের যোগসাজশে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ করছিলেন।এ ঘটনায় জড়িত আরও দুইজন পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।