মোঃ আজগার আলী, জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরা পৌরসভার পলাশপোল এলাকায় পরকীয়ায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক গৃহবধূ ও তার বোনের ওপর নির্মম হামলার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন গৃহবধূর বোন শিরিনা সুলতানা, যিনি বর্তমানে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের পলাশপোল নবজীবন ইন্সটিটিউট স্কুল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ মোছাঃ হেনা পারভীন সাতক্ষীরা সদর থানায় স্বামী মোঃ মাহফুজুর রহমানসহ তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হেনা পারভীনের সঙ্গে প্রায় চার বছর আগে মাহফুজুর রহমানের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই স্বামী বিভিন্ন নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করেন হেনা পারভীন। এ নিয়ে দাম্পত্য কলহ লেগেই থাকত। একপর্যায়ে বিষয়টি সাতক্ষীরা লিগ্যাল এইড কমিটিতে গেলে উভয় পক্ষের সম্মতিতে তাদের একসঙ্গে এক সপ্তাহ বসবাসের সিদ্ধান্ত হয়।
কিন্তু নির্ধারিত সময়ের তিন দিন পার হলেও স্বামী প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করায় শুক্রবার রাতে স্বামীর বাড়িতে যান হেনা পারভীন। সেখানে পৌঁছালে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে স্বামী মাহফুজুর রহমান, শ্বশুর জুম্মান সরদার, শাশুড়ি মরিয়ম খাতুন ও ভাসুর কুরবান সরদার। একপর্যায়ে তারা তাকে মারধর শুরু করে।
হেনা পারভীনের চিৎকার শুনে তার বোন শিরিনা সুলতানা এগিয়ে এলে তাকেও বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তার মাথা, মুখ ও চোখে গুরুতর আঘাত লাগে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনার পরপরই সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে এসআই রাজীব সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী হেনা পারভীন সাংবাদিকদের জানান, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ায় জড়িত এবং তাকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলার বিষয়টি ভিন্ন খাতে নিতে অভিযুক্তরা নিজেরাই বাড়ির কাঁচ ভাঙচুর করে মিথ্যা নাটক সাজানোর চেষ্টা করছে এবং তাদের পরিবারকে নিয়মিত হুমকি দিচ্ছে। বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
স্থানীয়রা জানান, মাহফুজুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলেও ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভুক্তভোগী পরিবার জেলা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।