জিলহজ খান স্টাফ রিপোর্টার
আজ রোববার (২৯ মার্চ) বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া শহরের সাবেক জেলা বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা শ্রমিক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আব্দুল কুদ্দুস লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে এই ঘোষণা দেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাইফ উদ্দিন আহমেদ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জেলা শ্রমিক দলের এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় কমিটির নেতৃবৃন্দ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বেচ্ছাচারিতা, বালু মহাল ও ঘাট দখল এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে টেন্ডারবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেন।
এছাড়া সংগঠনের মাসিক চাঁদা আত্মসাৎ এবং পতিত স্বৈরাচারী সরকারের দোসরদের অর্থের বিনিময়ে দলে ভেড়ানোর চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগও তাঁদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, “রাষ্ট্র ও সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং চাঁদাবাজিতে লিপ্ত ব্যক্তিদের সংগঠনের কোনো দায়িত্বশীল পদে থাকার নৈতিক অধিকার নেই। সভায় উপস্থিত সকলের আলোচনার ভিত্তিতে তাঁদের ওপর অনাস্থা জ্ঞাপন করা হয়েছে। আজ থেকে খ.ম. মোখলেছুর রহমান ও মিজানুর রহমান কুষ্টিয়া জেলা শ্রমিক দলে অবাঞ্ছিত।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণসহ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নিকট সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। সাধারণ শ্রমিক ও নেতা-কর্মীদের এই দুই ব্যক্তির সঙ্গে কোনো প্রকার সাংগঠনিক যোগাযোগ না রাখার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে।
সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ‘দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিতে জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে এবং দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে জেলা শ্রমিক দলের তিন নেতা সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুল ইসলাম, সহ-সভাপতি রাইজার উদ্দিন এবং তাকে (আব্দুল কুদ্দুস) বহিষ্কার করা হয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি রাইজার উদ্দিন ও মুন্সির সাঈদ আহমেদ মুসা; সাংগঠনিক সম্পাদক বাবু, সিদ্দিকুর রহমান ও মিন্টু; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম দিলু ও আসাবুল হায়দার মধু, দপ্তর সম্পাদক হাফিজুর রহমান, সহ-সাধারণ সম্পাদক সঞ্চয় দত্ত, জাফর উদ্দিন ও ওসমান আলী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তরিকুল ইসলামসহ কার্যকরী সদস্য রাশিদুল ইসলাম, আক্তার, এছেম, আরিফুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম, মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, সাইফুদ্দিন বিশ্বাস, সামিদুল, নাহিদ পারভেজ, আব্দুল মান্নান শেখ ও রমজান বিশ্বাস প্রমুখ।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি খ.ম. মোখলেছুর রহমান বলেন, “সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। আমাদের বিরুদ্ধে আনা চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। আমরা যা করেছি তা বৈধভাবেই করেছি।
অবাঞ্ছিত ঘোষণা প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, সংবাদ সম্মেলনে যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের অনেকেই সংগঠনের কেউ নন। কেন্দ্র তাদের সাথে আছে এবং কোনো অভিযোগের বিষয়ে তারা অবগত নন।